নারীবাদ

বর্তমান বিশ্বের কয়েকটি আলোচিত বিষয়ের মধ্যে অন্যতম একটি আলোচিত বিষয় হলো নারী-অধিকার। নারীবাদরা বলে যে নারীবাদ নারী ও পুরুষের মধ্যে সাম্য প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। কিন্তু বাস্তবে নারীবাদ গড়ে উঠেছে পুরুষদের বিরুদ্ধে একটি “রি-অ্যাকটিভ” অ্যাপ্রোচ হিসেবে। গোটা পুরুষ জাতির বিরুদ্ধেই বিদ্বেষপ্রসূত চিন্তাভাবনা হল নারীবাদ । নারীবাদীদের কাছে পুরুষ কেবল ধর্ষক, অত্যাচারী, নির্যাতক, অবাঞ্ছিত জিনিস।

নারীবাদীরা নারী-পুরুষের সমতার বদলে নারীর প্রতি পক্ষপাত এবং নারীর একক আধিপত্য তৈরি করতে চায়। তারা মনে করে যে দীর্ঘদিন পুরুষরা সুবিধা ভোগ করেছে, নারীরা নির্যাতিত হয়েছে। তাই এখন এর বিপরীত ব্যবস্থাটি হওয়া উচিত। প্রতিশোধ নেয়াটাই মহোত্তম।

নারীবাদীরা মানব স্বভাব ও সমাজের মূলে কুঠারাঘাত হানার জন্য বিরাজমান সামাজিক কাঠামো ও আইনকানুনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছে। তারা বিয়ে, পরিবার, গিন্নিপনা, ধর্মের ঘোর বিরোধী। নারীবাদরা মনে করে যে বেলেল্লাপনাই নারী স্বাধীনতার পথ।

নারীবাদরা বলে যে বৈষম্য পূর্ণ সমাজ ব্যবস্থার পিছনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে দায়ী ধর্ম। ধর্মের ছায়া তলেই পিতৃ-তন্ত্র সমাজ রাজত্ব করে চলছে। তাই আজ নারী মুক্তি বলতে ধর্মের বিধিবিধানকে তোয়াক্কা না করা এবং শিথিল নৈতিকতাকে সমর্থন করাই বুঝায়।

নারীবাদীরা মনে করে যে বিয়ে নামক কৃত্রিম পদ্ধতিটির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত সংসার নামক সংগঠনটি দ্বারা নারীর নিষ্পেষিত হয় । তাই তারা বিয়েকে অপ্রয়োজনীয় মনে করে ।

নারীবাদী তসলিমা নাসরিন বলেছেন যে:-

  • বিয়ের প্রয়োজনীয়তা আদৌ নেই ।
  • ধর্ম যেমন মিথ্যে প্রমাণিত হওয়ার পরও টিকে আছে, বিয়েটাও ওই ধর্মের মতোই। যুক্তিহীন, কিন্তু টিকে আছে।
  • আগামী দিনের সমাজবিজ্ঞানীরা ইতিহাস খুঁড়ে বিয়ের ফসিল আবিষ্কার করবেন, আলোকিত মানুষকে পুরনো দিনের গল্প শোনাবেন। –‘পৃথিবীতে একটি যুগ ছিল, সে যুগের নাম অন্ধকার যুগ। সেই অন্ধকার যুগে একটি প্রথা দীর্ঘ-দীর্ঘকাল টিকে ছিল, প্রথাটির নাম বিয়ে’।

নারীবাদীরা গিন্নিপনা ও ঘরের ভেতরে কাজ করাকে নারীর জন্য অপমানজনক বলে মনে করে। তারা মনে করে এটা হচ্ছে পুরুষের সেবা ও স্রেফ তাদেরই স্বার্থ রক্ষা করা। নারীবাদীদের মতে, ঘর-কন্না ও সংসারের কাজ করা ঘরের বাইরে নারীর কর্মসংস্থান এবং তাদের সামাজিক তৎপরতার পথে প্রধান বাধা।

প্রখ্যাত মার্কিন নারীবাদী বিটি ফ্রিদান-এর মতে, “গত কয়েক শতক ধরে পুরুষতান্ত্রিক মতাদর্শ নারীর ওপর কর্তৃত্ব করে এসেছে।”

ফরাসি নারীবাদী সাইমন দ্যা বিভোয়ের মনে করেন গৃহবধূর কাজগুলো অর্থহীন বা পণ্ডশ্রম মাত্র এবং সমাজের জন্য এইসব কাজ প্রত্যক্ষভাবে লাভজনক নয়। তার মতে ঘরের কাজে কোন কিছু উৎপাদিত হয় না বলে গিন্নীরা হলেন দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক।

বামপন্থী নারীবাদী ওয়েলি সেকম্ব মনে করেন নারীরা ঘরের কাজ করে পুঁজিবাদী পুরুষকে বেশি শোষণের সুযোগ করে দেয়। তাই পুঁজিবাদী ব্যবস্থা বিনামূল্যে শ্রম দানকারী এইসব গিন্নী ছাড়া ধ্বংস হয়ে যাবে।

আজ পশ্চিমী সমাজে নারীর মাতৃত্বের ভূমিকা প্রধান না হয়ে গৌণ হয়ে পড়েছে। বরং ঘরের বাইরে কাজ করাই পাশ্চাত্য নারীর জন্য প্রধান দায়িত্ব হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পাশ্চাত্যে নারীবাদের বিস্তারের ফলে বিয়ে করা, মা হওয়া ও সংসারী হওয়াকে নারীর জন্য অশালীন বলে মনে করা হয় এবং ঘরের বাইরে নারীর কাজ করাকে ব্যাপক উৎসাহ দেয়া হয়।

তাছাড়া নারীবাদীরা বিশ্বাস করে যে নারীত্বই নারীর শোষণ-নির্যাতনের মূলকারণ । যতদিন নারী নারী হয়ে থাকবে ততদিন সে অবলা জীব, পুরুষ-শ্রেণিটির দ্বারা নির্যাতিত হতেই থাকবে। নিজের সত্তাকে অস্বীকার করে পুরুষ হওয়ার অদম্য চেষ্টায় তারা মেতে উঠেছে।

‘উদার’ নারীবাদীরা মনে করেন সমকামীতা বিষমকামের বিকল্প । নারীর জন্যে সমকামী হওয়া অনেক বেশী স্বাচ্ছন্দ্যের, বিশেষত নিজেকে পুরুষের নিয়ন্ত্রণমুক্ত রাখা জন্য। পুরুষ সকল সময় নারীকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায়, সে চায় তার বাচ্চা হবে। নারীটিকেই যেহেতু সেই বাচ্চা উৎপাদন করতে হয়, পুরুষটি তার নারীসঙ্গীকে পীড়নের সুযোগ পায়। সমকামীতায় বাচ্চা উৎপাদনের ব্যাপার-স্যাপার নেই। শোষিত বা পীড়িত হবারও সুযোগ নেই।

নারীবাদীদের দৃষ্টিতে সমান অধিকারের অন্যতম অর্থ হল ঘরের বাইরে নারী ও পুরুষের জন্য চাকরির অধিকার নিশ্চিত করা। যে নারী কেবলই গৃহবধূ তাকে পশ্চাৎপদ বলে মনে করে নারীবাদীরা। পুঁজিপতিরা অতিরিক্ত মুনাফা অর্জন ও উৎপাদন-ব্যয় কম রাখার জন্য তাদের কারখানায় সস্তা শ্রম শক্তি নিয়োগের পথ খুঁজছিলেন। আর নারীকেই তারা বেছে নিয়েছেন এ জন্য। পাশ্চাত্য শিল্প-সমাজের কর্তারাও তাই নারীবাদীদের ওই লক্ষ্যের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সব ধরনের কর্মক্ষেত্রে নারীকে টানছে।

এই সব বিবেচনা করে কি এটাই বলতে হয় না যে নারীবাদ একটা নেতিবাচক চরমপন্থা বা উগ্রবাদ মাত্র ?

Advertisements

About Amartya Talukdar

About: AMARTYA TALUKDAR was born in Kolkata, India. He has done his Masters in Mechanical Engineering from Indian Institute of Technology Benaras Hindu University. He is an avid blogger, computer geek , humanist , rationalist .
This entry was posted in বাংলা and tagged , . Bookmark the permalink.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s