বৈবাহিক ধর্ষণ

সম্প্রতি বৈবাহিক ধর্ষণের নিয়ে বাজার গরম করেছে নারীবাদীরা। বৈবাহিক ধর্ষণ নিয়ে নারীবাদের উটকো চিৎকারের পিছনে রয়েছে পরিবার ধ্বংস করার নারীবাদী ষড়যন্ত্র । নারীবাদীরা বিয়েকে দাসত্ব হিসাবে বিবেচনা করে এবং প্রত্যেক পুরুষকে ধর্ষক মনে করে । তাই নারীবাদীরা বাংলার পরিবার প্রথাকে ভেঙ্গে দিয়ে বিয়ে বহির্ভূত যৌনাচারে উৎসাহিত করছে মেয়েদের । সত্তরের দশকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে, প্রথমবারের মতো চরমপন্থী নারীবাদীদের উর্বর মস্তিষ্ক থেকে উৎপত্তি হয়েছিলো বৈবাহিক ধর্ষণের ধারণার। পাশ্চাত্যে, নারীবাদের বিস্তারের ফলে বিয়ে করা, মা হওয়া ও সংসারী হওয়াকে নারীর জন্য অশালীন বলে মনে করা হয় এবং ঘরের বাইরে নারীর কাজ করাকে ব্যাপক উৎসাহ দেয়া হয়।

নারীবাদী তসলিমা নাসরিন বলেছেন যে:-

বিয়ের প্রয়োজনীয়তা আদৌ নেই ।
ধর্ম যেমন মিথ্যে প্রমাণিত হওয়ার পরও টিকে আছে, বিয়েটাও ওই ধর্মের মতোই। যুক্তিহীন, কিন্তু টিকে আছে।
আগামী দিনের সমাজবিজ্ঞানীরা ইতিহাস খুঁড়ে বিয়ের ফসিল আবিস্কার করবেন, আলোকিত মানুষকে পুরোনো দিনের গল্প শোনাবেন। –‘পৃথিবীতে একটি যুগ ছিল, সে যুগের নাম অন্ধকার যুগ। সেই অন্ধকার যুগে একটি প্রথা দীর্ঘদীর্ঘকাল টিকে ছিল, প্রথাটির নাম বিয়ে’।

তাই আমাদের বৈবাহিক ধর্ষণ নিয়ে চিন্তা করার সময় সতর্ক হওয়া দরকার।

বৈবাহিক ধর্ষণ নিয়ে নারীবাদীরা হাস্যকর যুক্তি তৈরি করার চেষ্টা করছে। তারা রাষ্ট্রপুঞ্জের পরিসংখ্যান দেখিয়ে বলে যে বিবাহিতা ভারতীয় নারীদের ৭৫ শতাংশই নাকি বৈবাহিক ধর্ষণের শিকার। প্রশ্ন হল রাষ্ট্রপুঞ্জের কি প্রতিটি স্বামী-স্ত্রীর শয়নকক্ষ পরিদর্শন করে কিম্বা সিসি টিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে জেনেছে যে বিবাহিতা ভারতীয় নারীদের ৭৫ শতাংশই বৈবাহিক ধর্ষণের শিকার ? তাছাড়া, ওই ধর্ষিতা স্ত্রীরা কি স্থানীয় থানাগুলিতে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেছেন?

বস্তুত বৈবাহিক ধর্ষণ ভারতীয় আইনে স্বীকৃত নয়। ভারতীয় আইনের মতে বৈবাহিক সম্পর্কে যদি যে, কারোর দিক থেকে যৌন শিথিলতা থাকে, তবে তা আইনের চোখে নিষ্ঠুরতা। সে জন্য বিবাহ বিচ্ছেদ পর্ষন্ত হতে পারে। আকছার স্ত্রীরা স্বামীদের নপুংশক বলে বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা দায়ের করে থাকেন। স্বামীরা সাধারণতঃ লজ্জায় এ বিষয়টা নিয়ে চ্যালেঞ্জে যেতে চান না। তাছাড়া, এই নপুংশক শব্দটা পুরুষদের কাছে অত্যন্ত অপমানজনক। স্ত্রীরা বিবাহ বিচ্ছেদের সময় ১০-১৫ লক্ষ টাকা স্বামীদের কাছ থেকে হাতিয়ে ব্যাঙ্কে রেখে পুনর্বিবাহ করেছেন।

ধর্ষণের মৌলিক জায়গা তো ‘অনিচ্ছা সঙ্গম’। নারীর জন্য যা প্রযোজ্য, পুরুষের জন্য তা প্রযোজ্য হবে না কেন? কোনও পুরুষও যদি কোনও নারী কর্তৃক যৌন সংসর্গে বাধ্য হন, নারী যদি পুরুষের যৌন অনাগ্রহ, অনিচ্ছাকে উপেক্ষা করেন এবং অগ্রাহ্য করে তাকে যৌন সংসর্গে বাধ্য করেন- তবে সেটিও ধর্ষণ। ধর্ষিত কেবল নারীই হন না। অনিচ্ছা, অনাগ্রহ, বাধ্য সঙ্গমে পুরুষও ধর্ষিত। তবে আইন একতরফা হবে কেন ?

প্রশ্ন ওঠে যে স্ত্রীর যৌন সংসর্গে আপত্তি করেছিলেন এটা কি ভাবে প্রমাণ হবে? প্রত্যেক স্বামীকে কি রাতে শয়নকক্ষে ঢুকে প্রথমে স্ত্রীর কাছে থেকে লিখিত-সম্মতি নিয়ে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতে হবে ?

ভারতে বিবাহের মাধ্যমে স্বামী এবং স্ত্রীর মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক ও যৌনমিলন বৈধ করা হয়। দীর্ঘকাল ধরে স্ত্রীর যৌন সংসর্গে অনিচ্ছার শিকার স্বামীরা কি করবে ? তারা যদি অন্য কোন নারীকে যৌন সংসর্গের জন্যে বেছে নেন, তবে কি তা স্ত্রী মনে নেবেন ? সমাজে বিবাহবহির্ভূত যৌনতা, ব্যভিচার, অজাচার ও সমকামিতা বড়ে যাবে না ?

তাছাড়া যৌন ইচ্ছায় ইতি টেনে স্ত্রীরা স্বামীদের যথেচ্ছ নাচাতে পারে । সরা দেশে যে নারী নির্যাতন মামলা গুলো হয় তার ৯৫%ই ভুয়া। বৈবাহিক ধর্ষণ নামক আর একটা আয়ুধ স্ত্রীদের হাতে তুলে দেওয়া কি ঠিক হবে ? যে দেশে ৪৯৮এ ধারার দেদার অপব্যবহারে হয় , সে দেশে আবার বৈবাহিক ধর্ষণের মত ধারাল অস্ত্র ঢোকানোটা কি বোকামি হয়ে যাচ্ছে না ?

একেই মেয়েরা ৪৯৮এ ধারাকে অপব্যবহার করে ছেলেদের পরিবার সুদ্ধু বিনা দোষে জেল খাটাচ্ছে, সেখানে তাদের হাতে আর একটা অস্ত্র তুলে দেয়ার আগে আমাদের কি দেখা উচিত নয় যে তারা আগের অস্ত্রের কি ব্যবহার করেছে? গোদের ওপর বিষফোড়ার মত বৈবাহিক ধর্ষণ আইন এনে মেয়েদের হাত শক্ত করাটা কি খুবই দরকার?

নারীবাদের যারা প্রবক্তা, তাদের লক্ষ ও চূড়ান্ত মনস্কামনা হল নারীকে যথেচ্ছ জীবনাচারে অভ্যস্ত করে তোলা; নারীকে তার আবহমান কালের স্বাভাবিক অন্তর্মুখী জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন করে বহির্মুখী করে তোলা। বৈবাহিক ধর্ষণের ধারণা বিবাহ নামে সমাজ ব্যবস্থাকে ভাঙার নারীবাদী চক্রান্ত ছাড়া কিছু নয়।

তাই ভারতে বৈবাহিক ধর্ষণের কোন আইন প্রণয়ন একেবারেই অপ্রয়োজনীয়।

Advertisements

About Amartya Talukdar

About: AMARTYA TALUKDAR was born in Kolkata, India. He has done his Masters in Mechanical Engineering from Indian Institute of Technology Benaras Hindu University. He is an avid blogger, computer geek , humanist , rationalist .
This entry was posted in বাংলা and tagged , . Bookmark the permalink.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s