নারীবাদ এবং দেরিতে বিয়ে

তথাকথিত খেটে খাওয়া, নিম্নমধ্যবিত্ত গণ্ডিতে বা গ্রামীণ আর্থ-সামাজিক কাঠামোয় অপেক্ষাকৃত তাড়াতাড়ি বিয়ে এখনও দেখা যায় হয়তো। কিন্তু মধ্যবিত্ত-উচ্চমধ্যবিত্ত শিক্ষিত বাঙালি পরিবারে ছেলেরা তো বটেই, গড়পড়তা শিক্ষিত বাঙালি মেয়েরাও এখন নিজের পায়ে না-দাঁড়িয়ে, চাকরি না-পেয়ে বিয়ে করতে অনিচ্ছুক। তার জন্য জীবনের একটা বড় সময় চলে যায়। স্বভাবত, মেয়েদের বিয়ের গড় বয়স এখন বাড়তে-বাড়তে অনায়াসে তিরিশ। ছেলেদের ক্ষেত্রেও সেটা আঠাশ-ঊনত্রিশ থেকে লাফিয়ে পঁয়ত্রিশ-আটত্রিশ।

আমাদের দেশে নারীবাদের বিস্তারের ফলে বিয়ে করা, মা হওয়া নারীর জন্য অশালীন বলে মনে করা হচ্ছে এবং ঘরের বাইরে নারীকে কেরিয়ারমুখী হওয়াকে ব্যাপক উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে । নারীবাদীদের দৃষ্টিতে সমান অধিকারের অন্যতম অর্থ হল ঘরের বাইরে নারীর চাকরির অধিকার নিশ্চিত করা। তাই এখনকার মেয়েরা চাকরি না-পেয়ে বিয়ে করতে অনিচ্ছুক । তাদের কাছে বিয়ে মানেই কেরিয়ারমুখী উচ্চাভিলাষে ধাক্কা, হাজারো বাধ্যবাধকতা, রোম্যান্সে ইতি । তাই যত দিন পারা যায়, বিয়ে ঠেকিয়ে রাখতে চাইছেন তাঁরা।

পাশ্চাত্য শিক্ষার ফল সরূপ মানুষ স্বার্থপর , দায়িত্বহীন, বহির্মুখী, মেটেরিয়ালিস্টিক হয়ে পড়েছে । এখন কনসেপ্ট হল, জীবনটা আগে তো ভোগ করে নাও । উচ্চাশা আছে, উচ্চশিক্ষা আছে, বিদেশভ্রমণ আছে, শপিং মল-বিদেশি ব্র্যান্ড আছে, ফ্ল্যাট কেনা-গাড়ি কেনা আছে। এই সব মিটলে তার পর বিয়ের কথা ভাবা যেতে পারে।

বেশি বয়সে বিয়ে হলে ছেলে-মেয়ে উভয়ের মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা কমে, ধৈর্য কমে। দেরিতে বিয়ের জন্য বাচ্চাও দেরিতে হয়। বাবা-মা যখন ষাট পার করে ফেলেছেন তখন দেখা যায় ছেলে বা মেয়ে হয়তো সবে মাধ্যমিক পাশ করছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, দেরিতে সন্তান হতে গিয়ে মায়ের এবং সন্তানের কিছু শারীরিক সমস্যা হতে পারে। মেয়েদের বেশি বয়সে সন্তান ধারণে অসুবিধা হয়, ডেলিভারির পর অনেক সময় রক্ত বন্ধ হতে চায় না, তা ছাড়া সন্তান নষ্ট হওয়ার বা শারীরিক-মানসিক ভাবে বিকলাঙ্গ সন্তান জন্মানোর আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে বেশি বয়সের সন্তানদের মধ্যে ডাউন সিনড্রোমের মতো রোগের আশঙ্কা বেশি।

এত কিছুর পরেও কিন্তু দেরিতে বিয়ে করার হার ক্রমশ বাড়ছে । ৩০ পার করে বিয়ে করলে  স্বাভাবিকভাবেই বয়সের কারণে যে গাম্ভীর্য চলে আসে তার জন্য দাম্পত্য সম্পর্ক খুব বেশি মধুর ও ঘনিষ্ঠ হয় না । তাই বিয়ে টিকছে না । চারদিকে অসুখী দাম্পত্য, ভাঙা সম্পর্ক, সন্তান মানুষ করা নিয়ে ব্যস্ত স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে টানাপোড়েন দেখা যাচ্ছে ।

আগেকার দিনে শারীরিক চাহিদা পূরণ ছিল তাড়াতাড়ি বিয়ের বড় কারণ। প্রাপ্তবয়স্ক, যৌনসম্পর্কে সক্ষম মানুষের শরীরের খিদে তো  চাপা থাকে না। এটা তো প্রাকৃতিক প্রবণতা। দেরিতে বিয়ের  কারণে সমাজে বেশ্যালয় গমন, বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্ক  এবং ব্যভিচার বেড়েই চলেছে ।

 

 

 

Advertisements

About Amartya Talukdar

About: AMARTYA TALUKDAR was born in Kolkata, India. He has done his Masters in Mechanical Engineering from Indian Institute of Technology Benaras Hindu University. He is an avid blogger, computer geek , humanist , rationalist .
This entry was posted in Uncategorized. Bookmark the permalink.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s